বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তাঁর অবসরের ঘোষণা দেন।
মাহমুদউল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সবকিছু নিখুঁতভাবে শেষ হয় না, তারপরও একটা সময় শেষ বলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। শান্তি...আলহামদুলিল্লাহ।’ তাঁর এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি জাতীয় দলের দ্বিতীয় বড় অবসরের ঘোষণা। এর আগে, মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। তবে মাহমুদউল্লাহ সব ফরম্যাট থেকেই বিদায় নিলেন।
২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহর। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য খেলোয়াড়।
মাহমুদউল্লাহর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান:
ফরম্যাট | ম্যাচ | রান | গড় | সেঞ্চুরি/ফিফটি | উইকেট |
টেস্ট | ৫০ | ২৯১৪ | ৩৩.৪৯ | ৫/১৬ | ৪৩ |
ওয়ানডে | ২৩৯ | ৫৬৮৯ | ৩৬.৪৬ | ৪/৩২ | ৮২ |
টি-টোয়েন্টি | ১৪১ | ২৪৪৪ | ২৩.৫০ | ০/৮ | ৪১ |
তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার। মুশফিকুর রহিম (৪৭০) ও সাকিব আল হাসানের (৪৪৭) পর তাঁর অবস্থান।
মাহমুদউল্লাহর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০১৫ বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার নায়ক ছিলেন তিনি।
- ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক ইনিংস: ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব: ২০২১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন।
- ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক: ছয়টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন।
গত মাসেই তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা চলছিল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ বলে ৪ রানের ইনিংসের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় কোনো মন্তব্য করেননি। পরে বিসিবির ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাঁর নাম না থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হলে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।
অবশেষে, ১২ মার্চ তিনি ফেসবুকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন। বিদায়ী বার্তায় তিনি সতীর্থ, কোচ, ভক্ত, বাবা-মা, শ্বশুর ও ভাই এমদাদ উল্লাহকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা তাঁর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন।