মাগুরায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। এরপর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, “মাগুরার নির্যাতিত শিশুটি সিএমএইচ-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। চিকিৎসকরা দুপুর ১টায় শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এ ঘটনায় জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।” আইএসপিআর জানিয়েছে, “অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটি ১৩ মার্চ দুপুর ১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।”
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে শিশুটির তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। দুইবার তাকে স্থিতিশীল করা গেলেও তৃতীয়বার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, এবং ছোট্ট এই প্রাণটি মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী শিশুটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।
এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণ শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই ঘটনার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।